চাকরির বেতন ১০ হাজার, ব্যাংকে ঢুকল ১০ হাজার কোটি
৪ ঘন্টা আগে শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ভারতের
রাজস্থানে মাসে ১০ হাজার রুপি বেতনে চাকরি করেন ২২ বছর বয়সি এক যুবক। হঠাৎ একদিন ব্যাংক
অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখেন, সেখানে জমা হয়েছে ১০ হাজার কোটি রুপি!
তবে
সেই বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পাননি তিনি। কারণ, ব্যাংক হিসাবটিতে
সঙ্গে সঙ্গেই অর্থ উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এতে আটকে যায় তার নিজের জমানো
৫৫ হাজার রুপিও।
গত
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজস্থানের সিকার শহরের বাসিন্দা সামির খান নিজের মুঠোফোনে প্রিপেইড
রিচার্জ করতে গিয়ে ব্যাংক হিসাবের ব্যালেন্স পরীক্ষা করেন। তিনি সিকারের সালাসার বাসস্ট্যান্ডের
কাছে নির্মল মেডিকেল পয়েন্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
ব্যাংকিং
অ্যাপে পিন নম্বর দিয়ে প্রবেশ করে তিনি দেখেন, তার হিসাবের ব্যালেন্স শূন্য। পরে বিস্তারিত
খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থের উত্তোলনের
ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিষয়টি
তিনি তার নিয়োগকর্তা ধীরাজ শর্মাকে জানান। পরে দুজন সিকারের সাইবার পুলিশ স্টেশনে যান।
পুলিশ তাদের সরাসরি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। ব্যাংকে যোগাযোগ করলে
জানানো হয়, কারিগরি ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
পরে
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কারিগরি ত্রুটি সংশোধন করে। একপর্যায়ে সামিরের ব্যাংক হিসাবে সঠিক
ব্যালেন্স ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সামির
খান বলেন, ‘আমার হিসাবে আগে প্রায় ৫৫ হাজার রুপি ছিল। পরে জানতে পারি, ১০ হাজার কোটি
রুপির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিজের জমানো টাকাও তুলতে পারছিলাম না। পুলিশের
কাছে যাই এবং ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলি। পরে সমস্যার সমাধান হয়েছে।’
তার
নিয়োগকর্তা ধীরাজ শর্মা বলেন, ‘সামির জানুয়ারি থেকে আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। তার
মাসিক বেতন ১০ হাজার রুপি। সে যখন আমাকে ১০ হাজার কোটি রুপির নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়,
তখন আমি হতবাক হয়ে যাই। জীবনে প্রথমবার এমন ঘটনা দেখলাম।’
ব্যাংকের
কারিগরি ত্রুটির কারণে সামিরের হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ দেখানো হয়েছিল। তবে সেই অর্থের
পাশাপাশি তার নিজের জমানো টাকাও সাময়িকভাবে আটকে যায়। পরে ব্যাংক ত্রুটি সংশোধন করে
হিসাব স্বাভাবিক করে।